Add up to five of your favourite RCPsych pages to find them whenever you need.

You currently have no favourites. Visit and add pages to access them here.

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল (ডিপো) অ্যান্টিসাইকোটিকস

    Long-acting injectable (depot) antipsychotics

    Below is a Bengali translation of our information resource on long-acting injectable (depot) antipsychotics. You can also view our other Bengali translations.

    এই তথ্যটি তাদের জন্য যারা দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল মানসিক রোগ প্রতিরোধী (অ্যান্টিসাইকোটিক) ওষুধ (যা ডিপো ওষুধ নামেও পরিচিত) সম্পর্কে আরও জানতে চান। এটি দেখায় যে এই ওষুধ গুলো কী, কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে আপনি নিজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ কী?

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস হল অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। এগুলো ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।

    এই ইনজেকশনগুলোতে অ্যান্টিসাইকোটিক উপাদান এবং একটি মূল উপাদান থাকে। এই মূল উপাদানটি তেল অথবা জল হতে পারে, এবং এটি ধীরে ধীরে শরীরে ওষুধ নিঃসরণ করে।

    সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস ওষুধগুলো 'ডিপো' ওষুধ নামে পরিচিত। এর কারণ হল এই ইনজেকশনগুলো ইনজেকশন দেওয়া পেশীতে ওষুধের একটি ভাণ্ডার (অথবা ডিপো) তৈরি করে। তারপর এটি কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে শরীরে নির্গত হয়।

    অনেক ওষুধই ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া যায় (যেমন ডায়াবেটিসের জন্য ইনসুলিন)। তবে এই রিসোর্সটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করে।

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস ওষুধ মনস্তাত্ত্বিক রোগের(সাইকোসিস) উপসর্গের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এগুলো নিম্নলিখিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়:

    • সিজোফ্রেনিয়া
    • সিজোঅ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার
    • বাইপোলার ডিজঅর্ডার

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস ওষুধগুলো অন্যান্য রোগজনিত সাইকোসিসের উপসর্গ নিরাময়েও ব্যবহার করা যায়, যেমন তীব্র মানসিক অবসাদের ক্ষেত্রে। আপনার ডাক্তার আপনাকে কেন দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক নিতে বলছেন তা বুঝতে না পারলে তাদের ব্যাখ্যা করতে বলুন যে তারা কেন মনে করেন এটি আপনার জন্য উপযোগী হবে।

    আপনি দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকের পাশাপাশি অন্য ওষুধও খেতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার সিজোঅ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার থাকে, তাহলে হয়তো মুড স্টেবিলাইজার জাতীয় ওষুধও খেতে হবে। আপনি এটি ট্যাবলেট বা তরল আকারে খেতে পারেন।

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক কি অন্যান্য অ্যান্টিসাইকোটিকের থেকে আলাদা?

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ইনজেক্টেবলের মাধ্যমে ওষুধ আপনার শরীরে ট্যাবলেট খাওয়ার মতো একই ভাবে প্রবেশ করে। একমাত্র পার্থক্য হল:

    • যে পথে ওষুধ শরীরে প্রবেশ করে
    • আপনাকে দেওয়া ওষুধের পরিমাণ। ওষুধটি সময়ের সাথে ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করে, তাই এর পরিমাণ বেশি হওয়া প্রয়োজন।

    অর্থাৎ ডিপো ইনজেকশনের সুবিধা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুখে ওষুধ খাওয়ার মতোই।

    আমাকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক দেওয়া হলে তখন কী হবে?

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক গ্রহন করার জন্য আপনাকে নার্স বা ডাক্তারের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত কক্ষে যেতে হবে। তারা ওষুধের ধরন অনুযায়ী আপনাকে বাহু, উরু অথবা নিতম্বে ইনজেকশন দেবে।

    প্রতিটি ইনজেকশনের পর ওষুধটি আপনার শরীরে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত থাকবে। এটি নির্ভর করে আপনি কী ধরনের এবং কী মাত্রার অ্যান্টিসাইকোটিক গ্রহণ করছেন তার উপর।

    আমি প্রথমবার দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল গ্রহণ করা শুরু করলে তখন কী হবে?

    প্রথমবার দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক নেয়ার আগে আপনাকে নিচের জিনিসগুলোর যেকোন একটি গ্রহণ করতে হতে পারে:

    • টেস্ট ডোজ – এটি একটি এককালীন ইনজেকশন যা আপনি এই ওষুধ অথবা এর তৈলাক্ত উপাদানের প্রতি সংবেদনশীল কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য দেওয়া হবে। যদি আপনি পরীক্ষামূলক ডোজে সংবেদনশীল না হন, তবে সাধারণত সাত দিন পর আপনাকে প্রথম পূর্ণ মাত্রার ডোজ দেওয়া হবে।
    • স্বল্পমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল – এটি আপনার ওষুধের এক অথবা দুই ডোজ, যা একদিন পর পর দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল ওষুধের মতো একই উপাদান থাকে, তবে এটি ধীরে ধীরে নয়, তৎক্ষণাৎ শরীরে নির্গত হয়। এই ইনজেকশনগুলো নেয়ার পর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না হলে আপনাকে পূর্ণ মাত্রার ডোজ দেওয়া হবে।
    • ওষুধটির ট্যাবলেট সংস্করণ

    যদি আপনি এই ওষুধ অথবা এর তৈলাক্ত উপাদান নিয়ে সংবেদনশীল হন, তাহলে আপনার মধ্যে এই ওষুধ সম্পর্কিত কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। আপনি আমাদের অ্যান্টিসাইকোটিকস রিসোর্সে এগুলো সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন। অথবা আপনার অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

    যারা আপনার চিকিৎসা করছেন তারা আপনাকে একটি পরীক্ষামূলক ডোজ দিয়ে যে কোনো সমস্যা শনাক্ত করতে পারবেন এবং আপনাকে চিকিৎসা পরিকল্পনার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবেন।

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল ওষুধ কেন নিতম্ব, উরু অথবা বাহুতে দেওয়া হয়?

    ইনজেকশনগুলোতে থাকা কিছু উপাদান বেশ ঘন। এই কারণে এগুলো একটি বড় আকারের পেশীতে দিতে হয়, যাতে ব্যথা এবং ফোলা কম (বা একেবারেই না) হয়। ইনজেকশন নিতম্বে, উরুতে নাকি বাহুতে নেয়া বেশি ভালো হবে তা নিয়ে আপনার ডাক্তার বা নার্সের সাথে আলোচনা করতে পারেন।

    কিছু ওষুধ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থানে দেওয়া যায়, তাই এটি আপনি কোন স্থান নির্বাচন করবেন তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    আমি আমার ইনজেকশন নিতে কোথায় যেতে পারি?

    আপনি যদি হাসপাতালে না থাকেন, তাহলে কোনখান থেকে ইনজেকশন নেবেন তার সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারেন । বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    • আপনার ডাক্তারের চেম্বার 
    • একটি কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র
    • একটি বহির্বিভাগীয় ক্লিনিক
    • আপনার বাড়ি।

    কিছু ইনজেকশন আছে যা দেয়ার পর আপনাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হতে পারে। এই কারণে আপনাকে ইনজেকশন নিতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হবে, যাতে এটি সম্ভব হয়। আপনি আপনার চিকিৎসকের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন।

    এই ইনজেকশনগুলো আমাকে কত ঘন ঘন নিতে হবে এবং এগুলো কতদিন পর্যন্ত কাজ করবে?

    আপনাকে সপ্তাহে একবার থেকে ছয় মাসে একবার পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল নিতে হতে পারে। সাধারণত প্রতি চার সপ্তাহে একবার ইনজেকশন নিতে হয়।

    এই ইনজেকশনগুলো কতদিন কার্যকর থাকবে তা আপনার রোগ এবং আপনি যে ওষুধ নিচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে। এ বিষয়ে আপনার ডাক্তারের সাথে আলোচনা করতে হবে।

    আপনি যে ওষুধ নিচ্ছেন সেটি সম্পর্কে আরও জানতে একজন ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলতে পারেন অথবা ওষুধের সাথে পাওয়া রোগীদের জন্য তথ্যের লিফলেট (পেশেন্ট ইনফরমেশন লিফলেট) পড়তে পারেন। আপনি দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল নেয়ার সময় আপনার ডাক্তার অথবা নার্স আপনাকে এটি দেবেন। আপনার ওষুধ বেছে নেয়ার আগে বা ইনজেকশন নেয়ার সময় এটি পড়তে চাইতে পারেন।

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেকশন কার্যকর হতে কত সময় লাগে?

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল ওষুধগুলো শরীরে ধীরে ধীরে নির্গত হয়, তাই এগুলো ঠিকভাবে কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। যদি আপনি ট্যাবলেট আকারে অ্যান্টিসাইকোটিকস নিয়ে থাকেন, তাহলে প্রথমবার দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল শুরু করার সময় আপনাকে সেগুলো আরো কিছুদিন ধরে খাওয়া চালিয়ে যেতে বলা হবে। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল ওষুধ সম্পূর্ণ কার্যকর না হয়। যদি আপনাকে এটি করতে হয় তাহলে ওষুধ নির্ধারণকারী ব্যক্তি আপনাকে জানাবেন ।

    কোন দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ আমার জন্য সবচেয়ে ভালো?

    কোন দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল ওষুধটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় ওষুধ নির্ধারণকারী ব্যক্তির আপনার সাথে আলোচনা করা উচিত।

    সব দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস ওষুধ কার্যকারিতার দিক থেকে সাধারণত একই রকম। তবে, বিভিন্ন অ্যান্টিসাইকোটিক ট্যাবলেটের মতো তাদের প্রভাবের মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি খুব অস্থির থাকেন, তাহলে জুক্লোপেনথিক্সল বেশি উপযুক্ত হবে। অথবা যদি আপনার অসুস্থতার সঙ্গে বিষণ্ণতা সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে ফ্লুপেনটিক্সল বেশি ভালো হবে।

    বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। এটি সম্ভবত ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনার এবং ডাক্তারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে।

    ভিন্ন ভিন্ন অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ভিন্ন ভিন্ন সময়ের ব্যবধানে দিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রতি চার সপ্তাহে দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে, অন্য আরেকটি প্রতি তিন মাসে দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। এটি আপনি কোন অ্যান্টিসাইকোটিক গ্রহণ করবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস ওষুধ কি শুধুমাত্র সম্মতি দিতে অক্ষম ব্যক্তিকে দেওয়া হয়?

    একটি প্রচলিত ভুল ধারণা আছে যে দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস ওষুধ শুধুমাত্র তাদেরই দেওয়া হয় যারা মানসিকভাবে এতটাই অসুস্থ যে চিকিৎসার জন্য সম্মতি দিতে পারে না।

    কিছু মানুষকে খুবই অসুস্থ হলে এবং হাসপাতালে থাকার সময় দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। অথবা যখন তারা এতটাই অসুস্থ থাকে যে চিকিৎসার অনুমতিও দিতে পারে না।

    তবে কিছু মানুষ ট্যাবলেটের মতো অন্যান্য বিকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস বেছে নেয়।

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো কী কী?

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক নির্ধারনের ক্ষেত্রে নিচের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো থাকতে পারে।

    ইতিবাচক দিক

    • আপনাকে প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার কথা মনে রাখতে হবে না।
    • আপনি আপনার ওষুধ খেতে ভুলবেন না, তাই অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
    • দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল ওষুধ ট্যাবলেটের তুলনায় বেশি সময় শরীরে থাকে, তাই সেগুলো বন্ধ করার পর আবার অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
    • ট্যাবলেট গিলে খেতে আপনার কষ্ট হলে এগুলো সহায়ক হতে পারে।
    • "আমার যে ধরনের ঘুমের অভ্যাস, তাতে মাসে একবার ইনজেকশন নেয়াই আমার জন্য বেশি সহজ। আমি যদি রাতে বাইরে কোথাও যাই এবং পরে কারো বাসায় থেকে যাই, তখন আমাকে ট্যাবলেট সাথে রাখার চিন্তা করতে হয় না। সুবিধার কথা ভাবলে, মাসে একবার ডাক্তারের কাছে গিয়ে ইনজেকশন নেয়া অনেক সহজ। মাইকেল

    নেতিবাচক দিক

    • ইনজেকশন নেয়ার বিষয়টি আপনার কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। এর পেছনে অনেক ধরনের কারণ থাকতে পারে, যেমন শরীরে ছুঁচ ফোটানো নিয়ে উদ্বেগ থেকে শুরু করে ইনজেকশন নিতে এক ধরনের সাধারণ অস্বস্তিবোধ। ইনজেকশন নেয়াকে স্বাভাবিকভাবেই ট্যাবলেট খাওয়া থেকে 'বড় ব্যাপার' বলে মনে হতে পারে।
    • দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেকশনগুলো একই ওষুধের ট্যাবলেটের তুলনায় বেশি সময় ধরে কাজ করে, অর্থাৎ ওষুধ কখন শরীরে যাবে কি যাবে না, তার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমে যায়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, আপনার মনে হতে পারে যে নিজের চিকিৎসার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমে গেছে।
    • কিছু মানুষ ইনজেকশন থেকে ব্যথা অনুভব করেন, যা কয়েক দিন ধরে থাকতে পারে। এটি সাধারণত হালকা হয়।

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল নেয়াটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, এবং আপনি যা ভাবছেন তা একেবারেই স্বাভাবিক।

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকসের কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো ঠিক ওই ওষুধের ট্যাবলেটের মতো। এর কারণ উভয়টিতে একই ওষুধ আছে এবং এগুলো একইভাবে কাজ করে।

    তবে ইনজেকশনের কিছু অস্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ১ জন মানুষের ক্ষেত্রে এগুলো দেখা দিতে পারে:

    • ব্যথা
    • ইনজেকশনের জায়গা থেকে সামান্য রক্তপাত হওয়া
    • ইনজেকশন দেওয়ার জায়গায় সাময়িকভাবে চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়া বা ছোট গুটি তৈরি হওয়া।

    কিছু দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকস পুরনো অ্যান্টিসাইকোটিকস গ্রুপের অন্তর্গত। এগুলোকে 'প্রথম প্রজন্মের' অ্যান্টিসাইকোটিকসও বলা হয়, এবং এর মধ্যে রয়েছে:

    • ফ্লুপেনটিক্সল ডেকানোয়েট
    • হ্যালোপেরিডল ডেকানোয়েট
    • জুক্লোপেনথিক্সল ডেকানোয়েট।

    নতুন বা 'দ্বিতীয় প্রজন্মের' অ্যান্টিসাইকোটিকগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    • রিস্পেরিডোন
    • প্যালিপেরিডোন পালমিটেট
    • ওলানজাপিন পামোয়েট মনোহাইড্রেট
    • অ্যারিপিপ্রাজোল

    এই তালিকায় সব ধরনের অ্যান্টিসাইকোটিকস অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। যেকোনো সময় নতুন ওষুধ বাজারে আসতে পারে। মনে রাখবেন, এই ওষুধগুলোর বিভিন্ন 'ব্র্যান্ড' নাম থাকবে।

    নতুনদের তুলনায় পুরনো অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার সম্ভাবনা বেশি। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো ওষুধের ওপর ভিত্তি করে আলাদা হতে পারে, তবে এর মধ্যে আছে- হাত ও পায়ের জড়তা বা কাঁপুনি। এই ওষুধগুলোর ট্যাবলেট সংস্করণেও একই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে।

    খুবই বিরল পরিস্থিতিতে ইনজেকশন দুর্ঘটনাক্রমে পেশীর পরিবর্তে শিরায় প্রবেশ করতে পারে। যদি এমন হয়, বা আপনাকে ইনজেকশন দেওয়া ব্যক্তি মনে করেন যে এমনটা ঘটেছে, তাহলে আপনাকে হাসপাতালে যেতে হবে এবং কোনো নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

    আপনি যে ওষুধটি নিচ্ছেন সেই ওষুধের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগীদের জন্য তথ্যের লিফলেটে ব্যাখ্যা করা আছে।

    এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো এড়াতে কি করা যেতে পারে?

    নিয়মিত ইনজেকশন নেয়াটা রীতিমত অস্বস্তিকর এবং ভীতিকর। তবে, অনেকেই সময়ের সাথে সাথে এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন এবং এতে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। যদি ইনজেকশন নিতে গিয়ে আপনি উদ্বিগ্ন বা চাপগ্রস্ত বোধ করেন, তাহলে নার্স বা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

    প্রতিবার ইনজেকশন নেয়ার স্থান পরিবর্তন করলে নিয়মিত ইনজেকশনের শারীরিক অস্বস্তিও কমানো যায়।

    বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল ওষুধ বিভিন্ন সময়ের ব্যবধানে দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু সাপ্তাহিকভাবে দেওয়া হয়, কিছু প্রতি ২ সপ্তাহে একবার, এবং কিছু প্রতি ৬ মাসে একবার। ইনজেকশন নিতে ব্যথা লাগলে আপনি এমন কোনো ওষুধ বেছে নিতে পারেন যা আপনাকে তুলনামূলক কম বিরতিতে নিতে হয়।

    যদি কোনো অপ্রীতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করেন, তাহলে নিচের বিকল্পগুলো সম্পর্কে আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন:

    • ওষুধের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া। আপনার ডাক্তার এমন একটি ডোজ খুঁজে বের করতে সাহায্য করবেন যা আপনাকে যতটা সম্ভব কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেবে।
    • কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত অন্য একটি অ্যান্টিসাইকোটিক ব্যবহার করা।

    আমি যদি হাসপাতালে ভর্তি হই, তাহলে কি আমাকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক দেওয়া হবে?

    যদি আপনাকে মানসিক স্বাস্থ্য আইনের কোনো ধারা অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তাহলে ডাক্তাররা আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধেও আপনার চিকিৎসা করতে পারেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

    তা সত্ত্বেও, আপনার চিকিৎসার বিষয়ে আপনার অনুভুতি ও মতামত বিবেচনা করা এবং আপনার সাথে এই নিয়ে আলোচনা করাটা ডাক্তারের দায়িত্ব।

    তিন মাস পরেও যদি আপনি চিকিৎসা নিতে না চান, তবে হাসপাতাল একজন বহিরাগত ডাক্তারকে দিয়ে আপনাকে পরীক্ষা করাতে আইনিভাবে বাধ্য থাকবে। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন যে আপনি ওষুধ নেয়া চালিয়ে যাবেন কিনা।

    কিছু মানুষ দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধকে সহায়ক মনে করেন। কিছু ক্ষেত্রে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে এগুলো নেয়ার 'অগ্রিম সিদ্ধান্ত' নেয়। এক্ষেত্রে আপনি কাউকে জানান বা লিখে রাখেন যে পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে গেলে আপনি কী করতে চান।

    আমি যদি একটি ইনজেকশন মিস করি তাহলে কী হবে?

    যদি আপনি কোনো ইনজেকশন মিস করেন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব আরেকটি ইনজেকশন নেয়া উচিত। যদি তা না করেন তাহলে কিছু সময় পর ওষুধ কাজ করা বন্ধ করে দেবে এবং আপনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

    যদি আবার অসুস্থ হতে শুরু করেন, তাহলে অতীতের অসুস্থ থাকাকালীন উপসর্গগুলো আবার দেখা দিতে পারে। যেমন, ভুতুড়ে শব্দ শোনা বা অস্থির ও মানসিক যন্ত্রণাগ্রস্ত অনুভব করা।

    যদি আমার দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিকের ব্যাপারে কোনো উদ্বেগ থাকে তাহলে কী হবে?

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক নেয়ার সময় প্রতি কয়েক সপ্তাহে একবার ইনজেকশন নিতে আপনাকে একজন স্বাস্থ্য পেশাদারের কাছে যেতে হবে। এটি তাদের সাথে যেকোনো উদ্বেগ নিয়ে কথা বলার একটি চমৎকার সুযোগ।

    আপনি আপনার ডাক্তার, নার্স বা মূল কর্মীর সঙ্গেও কথা বলতে পারেন। তারা আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারবে, অথবা কেন আপনাকে একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা দেয়া হবে সে সম্পর্কে একটি সহায়ক ব্যাখ্যা দিতে পারবে।

    তারা আপনার সাথে বিকল্প চিকিৎসা নিয়েও আলোচনা করতে পারবে। আপনার ওষুধ সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে অথবা এখানে যা পড়েছেন তা বুঝতে না পারলে, অনুগ্রহ করে আপনার চিকিৎসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করুন। তারা চিকিৎসার ক্ষেত্রে আপনার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে চাইবেন।

    আমি যদি দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক নেয়া বন্ধ করতে চাই তাহলে কী হবে?

    দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ নেয়া বন্ধ করতে চাইলে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কথা বলুন।

    তারা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে এটি কীভাবে আপনার স্বাস্থ্যের, নিরাপত্তার এবং সাধারণভাবে আপনার জীবনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তারা আপনাকে সুষম ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে এবং ওষুধ নেয়া থামাতে হবে কিনা ও কীভাবে নিরাপদে থামতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারবে।

    অ্যান্টিসাইকোটিকস কোনো আসক্তি তৈরি করে না, তবে আপনার শরীর এগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যায়। হঠাৎ করে থামালে আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করতে পারেন। এই কারণে, কয়েক সপ্তাহ পর পর ওষুধের মাত্রা ধীরে ধীরে সামান্য পরিমাণে কমানোই উত্তম। এর ফলে ওষুধের পরিমাণ কমানোর পর আপনার উইথড্রয়াল সিম্পটম(মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করার কারণে যে উপসর্গ দেখা দেয়) দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। আপনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কিনা তা বুঝতে এটি আপনাকে এবং আপনার চিকিৎসককে সাহায্য করবে। 

    যদি আপনার উপসর্গগুলো আবার দেখা দেয় বা ডোজ কমানোর সময় বা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার পর আরও খারাপ হতে শুরু করে, তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। তিনি আপনার ভবিষ্যৎ সেবা ও চিকিৎসা পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনার সাথে আলোচনা করবেন।

    গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ আপনাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে তুলবে, তাই সেগুলো নেয়ার সময় মনে রাখবেন:

    • অ্যালকোহল আপনাকে আরও বেশি তন্দ্রাচ্ছন্ন করবে।
    • আপনি যদি পুরোপুরি সজাগ না হন বা ওষুধ আপনার মনোযোগে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন, তাহলে গাড়ি চালাবেন না বা কোনো যন্ত্রপাতি চালাবেন না।
    • কিছু অন্যান্য ওষুধ, যেমন ঘুমের ওষুধ বা হে ফিভারের ওষুধ, আপনাকে স্বাভাবিকের তুলনায় আরও বেশি তন্দ্রাচ্ছন্ন করে তুলতে পারে।

    আমার শারীরিক স্বাস্থ্য কি পর্যবেক্ষণ করতে হবে?

    আপনি যদি সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা সাইকোসিসের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষম ইনজেক্টেবল অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে আপনার জেনারেল প্র্যাকটিশনার সার্জারি আপনাকে বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বলবেন।

    যিনি আপনার বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন, তিনি আপনার যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যা খুঁজে বের করতে পারবেন এবং সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে সাহায্য করবেন।

    কৃতজ্ঞতা

    রয়াল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টস (Royal College of Psychiatrists) এর পাবলিক এনগেজমেন্ট এডিটোরিয়াল বোর্ড এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এটি বিদ্যমান সর্বোত্তম তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞ লেখক:  ডাঃ কনস্টান্টিনোস ইয়োয়ান্নিডিস

    অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ: নিক হান্টার

    অনুরোধের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তথ্যসূত্র পাওয়া যাবে। 

    This translation was produced by CLEAR Global (Nov 2026)

    Read more to receive further information regarding a career in psychiatry